অনলাইন ভিডিও কল সেক্সটর্শন স্ক্যামে বাড়ছে ভুক্তভোগী: সচেতনতাই একমাত্র প্রতিরোধ
- Repoter 11
- 02 Jan, 2026
অনলাইন ভিডিও কল সেক্সটর্শন স্ক্যামে বাড়ছে ভুক্তভোগী: সচেতনতাই একমাত্র প্রতিরোধ
-মাহ্ফুজ নবীন
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনলাইন ভিডিও কলের মাধ্যমে সেক্সটর্শন (যৌন ব্ল্যাকমেইল) স্ক্যামের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সাইবার অপরাধীরা অপরিচিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে হঠাৎ মেসেঞ্জার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় "হাই-হ্যালো" দিয়ে কথা শুরু করেন, তারপর ফ্রেন্ডশিপের প্রলোভন দেখিয়ে ভিডিও কলে নিয়ে যান। কলের সময় তারা নিজেরা নগ্ন হয়ে ভুক্তভোগীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্নভাবে নগ্ন হতে প্ররোচিত করেন।
(এই পেইজ থেকেও কল দেয়া হয় এবং এই মোবাইল নাম্বারে বিকাশ ও নগদে টাকা ব্লাকমেইল করে নিতে চায়)
একবার ভুক্তভোগী আবেগের বশে পড়লে অপরাধীরা স্ক্রিন রেকর্ড করে ফেলেন। কল কেটে যাওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীর গোপন ভিডিও দেখিয়ে টাকা দাবি করতে শুরু করেন। না দিলে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের স্ক্যাম প্রায়শই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ভারত, পাকিস্তান বা নাইজেরিয়া থেকে অপারেট করা হয়।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। এক ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, "ফেসবুকে একটি মেয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। কথা বলতে বলতে ভিডিও কলে যাই। সে নগ্ন হয়ে আমাকে প্ররোচিত করে। পরে ভিডিও দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ভয়ে আমি কাউকে বলতে পারিনি।"
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, "এ স্ক্যামগুলোতে প্রায়শই ফেক প্রোফাইল ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগীরা লজ্জায় বা ভয়ে অভিযোগ করেন না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। গত বছর এ ধরনের শতাধিক মামলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।"
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
- অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে যাবেন না।
- কোনো প্রলোভনে নগ্নতা প্রকাশ করবেন না।
- ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে টাকা দেবেন না – এতে অপরাধী আরও দাবি বাড়ায়।
- তাৎক্ষণিক পুলিশের সাইবার হেল্পলাইন ৯৯৯-এ কল করুন বা সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করুন।
- ফেক প্রোফাইল রিপোর্ট করুন এবং প্রাইভেসি সেটিংস শক্তিশালী করুন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা এবং দ্রুত অভিযোগই এই ফাঁদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। সমাজে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা বাড়ানো দরকার, যাতে ভুক্তভোগীরা লজ্জায় চুপ না থাকেন।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *










