হাওরের ঢেউয়ে জীবনের আলো: নেত্রকোনার কোটি টাকার ডিমের হাট বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি
- Reporter 12
- 26 Oct, 2026
সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বসা এই ব্যতিক্রমী হাট এখন শুধু স্থানীয়দের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
ভোর হতেই খামারি, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে আদর্শনগর হাট। জেলার মদন, খালিয়াজুড়ী, মোহনগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার ডিম নিয়ে হাজির হন খামারিরা। সকালজুড়ে চলে ডিম বাছাই, ঝুড়ি বা ক্যারেটে সাজানো এবং পাইকারদের সঙ্গে দরদাম। দিনশেষে কেনাবেচা শেষেই ট্রাকভর্তি হয়ে এসব ডিম পাড়ি জমায় রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও, খিলগাঁও ও খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, এই হাটে এক দিনেই ৮ থেকে ১০ লাখ ডিম বিক্রি হয়, যার আর্থিক লেনদেন ছাড়িয়ে যায় প্রায় কোটি টাকার ঘরে। হাঁস পালন থেকে শুরু করে ডিম সংগ্রহ, বাছাই, পরিবহন ও বিপণন—প্রতিটি ধাপে তৈরি হয়েছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ।
তবে সম্ভাবনাময় এই বাণিজ্যের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। হাওরের দুর্গম এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ, উচ্চ শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘ পথে ডিম ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায়ীদের লড়তে হয়। খামারি ও পাইকারদের মতে, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে এই খাত আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নেত্রকোনায় ১ হাজার ৭৬টি বাণিজ্যিক হাঁসের খামার ছাড়াও প্রায় ৪৯ হাজার ৭৮৮ জন প্রান্তিক খামারি রয়েছেন। জেলায় বছরে প্রায় ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডিম বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়াতে পারলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা এবং উন্নত যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে আদর্শনগরের এই হাঁসের ডিমের হাট হাওরাঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *






